চলতি মাসেই আরও ২০ বার কাঁপতে পারে বাংলাদেশ!’ বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তায় নতুন আতঙ্ক
গত দুদিনের টানা তিন দফা ভূমিকম্পের ধকল সামলে ওঠার আগেই নতুন করে আতঙ্কের খবর ছড়িয়েছে জনমনে। ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে যে, চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতে বাংলাদেশ আরও অন্তত ২০ বার ছোট-বড় মাত্রায় কেঁপে উঠতে পারে। মূলত বড় ভূমিকম্পের পরবর্তী ‘আফটার শক’ বা অনুকম্পনের ঝুঁকি থেকেই এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদীর মাধবদীতে যে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, তার উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে (শ্যালো ফোকাস)। ভূ-তাত্ত্বিক নিয়ম অনুযায়ী, মাটির অগভীর স্তরে বড় ধরনের শক্তি নির্গত হলে প্লেটগুলো স্থির হতে সময় নেয়। এই সময় ছোট ছোট অনেকগুলো কম্পন বা ‘আফটার শক’ সৃষ্টি হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এক অধ্যাপক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, “বড় ভূমিকম্পের পর প্লেট বাউণ্ডারিতে ভারসাম্য ফিরে আসতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এ সময়ে রিখটার স্কেলে ৩ থেকে ৪ মাত্রার বা তার চেয়ে কম মাত্রার কম্পন বহুবার হতে পারে। সংখ্যাটি ১০, ২০ বা তার বেশিও হতে পারে। তবে এর সবগুলো মানুষ অনুভব নাও করতে পারে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘২০ বার ভূমিকম্প হবে’—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি হয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা দিনক্ষণ আগে থেকে বলা বিজ্ঞানের অসাধ্য।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বলেন, “শুক্রবার ও শনিবারের ঘটনার পর টেকটনিক প্লেটগুলো অস্থির অবস্থায় আছে। তাই ঘন ঘন মৃদু কম্পন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে ‘২০ বার কাঁপবে’—এমন সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলাটা ঠিক নয়। এটি মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ আফটার শক যেকোনো সময় হতে পারে।”
পরপর ভূমিকম্প এবং নতুন এই সতর্কবার্তায় ঢাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বহুতল ভবন ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। রাতে সামান্য শব্দ হলেই মানুষ রাস্তায় নেমে আসছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকার এবং ভূমিকম্প চলাকালীন করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংখ্যা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো এড়িয়ে চলা এবং জরুরি অবস্থায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

