ভূমিকম্পে নিহত বাবা-ছেলের দাফন সম্পন্ন, লক্ষ্মীপুরে স্বজনদের আহাজারি
পুরান ঢাকায় ভূমিকম্পের সময় ভবনের রেলিং ধসে নিহত আবদুর রহিম (৫৫) ও তাঁর স্কুলপড়ুয়া ছেলে হাফেজ আবদুল আজিজ রিমনের (১৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে তাদের নিজ গ্রাম লক্ষ্মীপুরের বশিকপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার ভোররাতে ঢাকা থেকে আবদুর রহিম ও রিমনের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামানোর সময় স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সকাল ৯টায় স্থানীয় বশিকপুর আস-সুন্নাহ মাদ্রাসা ও মসজিদ কমপ্লেক্স মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও এলাকাবাসীসহ হাজারো মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
নিহত আবদুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানেই ব্যবসা পরিচালনা করতেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে তিনি ছেলে রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বংশালের কসাইটুলি এলাকায় বাজার করতে যান। ঠিক সেই সময় শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাশের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে তাদের ওপর পড়ে।
ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবা আবদুর রহিম। গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলে রিমনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। মাত্র ১৩ বছর বয়সী রিমন পবিত্র কুরআনের হাফেজ ছিলেন। ফুটফুটে এই কিশোরের অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসী বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
বাবা-ছেলের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসী। বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, “জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকা মানুষগুলোর এমন মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বাবা ও ছেলের লাশ একসাথে দাফন করার দৃশ্য আমাদের সবার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। আমরা তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”
শুক্রবারের ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও, একই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ও কনিষ্ঠ সন্তানের মৃত্যু লক্ষ্মীপুরের এই জনপদকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

