এবার বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কায় আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বিশেষজ্ঞরা সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রেক্ষিতে বড় ভূমিকম্পের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে এটি নির্দিষ্ট কোনো দিন বা সময়ের পূর্বাভাস নয়, বরং একটি ‘সতর্ক সংকেত’ বা ‘ওয়ার্নিং’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প এবং শনিবার (২২ নভেম্বর) ৩.৩ মাত্রার আফটার শকের পর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবায়াত কবীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন:
গত কয়েক দশকে ঢাকা ও এর আশপাশে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ এবং ভূগর্ভে প্রচুর শক্তি জমা হয়েছে। তাই যেকোনো সময় বাংলাদেশে আরও বড় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভূমিকম্প ঠিক কবে বা কখন হবে, তা আগে থেকে সুনির্দিষ্টভাবে বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়। তবে সাম্প্রতিক কম্পনগুলো বড় বিপদের ‘আগাম বার্তা’ বা ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে দেখা উচিত।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হুমায়ুন আখতারও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন:
বড় ভূমিকম্পের আগে সাধারণত এমন ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন দেখা যায়, যাকে ‘ফোরশক’ (Foreshock) বলা হতে পারে।
ঢাকার এত কাছে (নরসিংদী ও সাভার) উৎপত্তিস্থল হওয়াটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
সারমর্মে, আবহাওয়া অফিস মূলত সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পের চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

