ঢাকা সন্ধ্যায় আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল

আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ। ঘড়ির কাটায় ঠিক ৬টার পরপরই এই কম্পন অনুভূত হয়। এ নিয়ে গত ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভব করল দেশবাসী।


শনিবার সন্ধ্যার ৬টার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কম্পন অনুভূত হয়। কম্পনটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। অফিস-আদালত ছুটি হলেও সন্ধ্যাবেলায় বাসায় থাকা মানুষ এবং শপিং মল ও বাজারে অবস্থানরতদের মধ্যে এই কম্পনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে বহুতল ভবন থেকে দ্রুত নিচে নেমে রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পের মাত্রা বা উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তর বা ইউএসজিএস (USGS) থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। 


এর আগে আজ শনিবার সকালেই (১০টা ৩৬ মিনিটে) ৩.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার উৎপত্তিস্থল ছিল সাভারের বাইপাইল। তারও আগে গতকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপেছিল পুরো দেশ, যাতে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

পরপর দুদিনে তিনবার ভূমিকম্পের ঘটনায় জনমনে চরম অস্থিরতা ও ভীতি কাজ করছে। বিশেষ করে ঢাকার বাসিন্দারা বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত পার করছেন। ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

 

 

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বহুতল ভবনে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিটের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে ভবনটি। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরের দিকে এই আগুনের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সেগুনবাগিচার ওই বহুতল ভবনের একটি তলা থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত ভবন থেকে নিচে নেমে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুনের তীব্রতা ও বহুতল ভবন হওয়ায় ঝুঁকি বিবেচনায় পরে আরও তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের মোট ৫টি ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার জানান, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুনে ফ্ল্যাটের কিছু আসবাবপত্র পুড়ে গেলেও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন অন্য ফ্লোরে ছড়াতে পারেনি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এবার বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কায় আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বিশেষজ্ঞরা সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রেক্ষিতে বড় ভূমিকম্পের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে এটি নির্দিষ্ট কোনো দিন বা সময়ের পূর্বাভাস নয়, বরং একটি ‘সতর্ক সংকেত’ বা ‘ওয়ার্নিং’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প এবং শনিবার (২২ নভেম্বর) ৩.৩ মাত্রার আফটার শকের পর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবায়াত কবীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন:
গত কয়েক দশকে ঢাকা ও এর আশপাশে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ এবং ভূগর্ভে প্রচুর শক্তি জমা হয়েছে। তাই যেকোনো সময় বাংলাদেশে আরও বড় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভূমিকম্প ঠিক কবে বা কখন হবে, তা আগে থেকে সুনির্দিষ্টভাবে বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়। তবে সাম্প্রতিক কম্পনগুলো বড় বিপদের ‘আগাম বার্তা’ বা ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে দেখা উচিত।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হুমায়ুন আখতারও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন:
বড় ভূমিকম্পের আগে সাধারণত এমন ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন দেখা যায়, যাকে ‘ফোরশক’ (Foreshock) বলা হতে পারে।
ঢাকার এত কাছে (নরসিংদী ও সাভার) উৎপত্তিস্থল হওয়াটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
সারমর্মে, আবহাওয়া অফিস মূলত সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পের চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

 

ভূমিকম্পে নিহত বাবা-ছেলের দাফন সম্পন্ন, লক্ষ্মীপুরে স্বজনদের আহাজারি

পুরান ঢাকায় ভূমিকম্পের সময় ভবনের রেলিং ধসে নিহত আবদুর রহিম (৫৫) ও তাঁর স্কুলপড়ুয়া ছেলে হাফেজ আবদুল আজিজ রিমনের (১৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে তাদের নিজ গ্রাম লক্ষ্মীপুরের বশিকপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার ভোররাতে ঢাকা থেকে আবদুর রহিম ও রিমনের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামানোর সময় স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সকাল ৯টায় স্থানীয় বশিকপুর আস-সুন্নাহ মাদ্রাসা ও মসজিদ কমপ্লেক্স মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও এলাকাবাসীসহ হাজারো মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

নিহত আবদুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানেই ব্যবসা পরিচালনা করতেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে তিনি ছেলে রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বংশালের কসাইটুলি এলাকায় বাজার করতে যান। ঠিক সেই সময় শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাশের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে তাদের ওপর পড়ে।
ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবা আবদুর রহিম। গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলে রিমনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। মাত্র ১৩ বছর বয়সী রিমন পবিত্র কুরআনের হাফেজ ছিলেন। ফুটফুটে এই কিশোরের অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসী বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

বাবা-ছেলের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসী। বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, “জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকা মানুষগুলোর এমন মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বাবা ও ছেলের লাশ একসাথে দাফন করার দৃশ্য আমাদের সবার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। আমরা তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”
শুক্রবারের ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও, একই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ও কনিষ্ঠ সন্তানের মৃত্যু লক্ষ্মীপুরের এই জনপদকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

ভূমিকম্পের আঘাতে মেট্রোরেলের ৬ স্টেশনে ফাটল, কর্তৃপক্ষের দাবি ‘গুরুতর নয়’

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ। এর প্রভাবে ঢাকার আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মেট্রোরেলের অবকাঠামোতেও আঘাত লেগেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, পল্লবী, মিরপুর ১০, মিরপুর ১১ ও ফার্মগেট—এই ছয়টি স্টেশনের দেয়াল, ফ্লোর ও টাইলসে ফাটল দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে দেখা যায় ভূমিকম্পের ক্ষত।
কারওয়ান বাজার ও বিজয় সরণি: এই দুই স্টেশনের বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন কক্ষের ফ্লোরে ফাটল ধরেছে। বিজয় সরণির সাব-স্টেশন কক্ষের প্রবেশদ্বারের দেয়ালেও ফাটল দৃশ্যমান।
পল্লবী: বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন কক্ষ এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষের (কন্ট্রোল রুম) ভেতরে ফাটল দেখা গেছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের এক কোণের দেয়ালে স্পষ্ট ফাটল রয়েছে।
মিরপুর ১১: বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের ফ্লোরে ফাটল তৈরি হয়েছে।
মিরপুর ১০: স্টেশনের ভেতরের কয়েকটি টাইলসে ফাটল ধরেছে।
ফার্মগেট: লিফট কোরের ভেতরের দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে।

ফাটলের বিষয়ে পল্লবী স্টেশনের কন্ট্রোলার মো. সায়েম প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে বলেন, “আগেও ফেটে থাকতে পারে, আবার ভূমিকম্পেও ফাটতে পারে। আমি জানি না—এখনই প্রথম দেখলাম।” তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানান, ভূমিকম্পে আরও একটি স্থানে ফাটল ধরেছে।
কারওয়ান বাজার স্টেশনে সন্ধ্যায় সাব-স্টেশন কক্ষটি বন্ধ পাওয়া যায়। সেখানকার এক কর্মী জানান, ফাটল দেখা দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভূমিকম্পের পরপরই মেট্রোরেল চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হলেও শুক্রবার বিকেল থেকে তা স্বাভাবিক হয়। ফাটলের বিষয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিষয়টিকে ‘গুরুতর নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “ফাটল দেখেছি। এগুলো অবকাঠামোগত বা গুরুতর কোনো সমস্যা নয়। আমরা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি।”
ঝুঁকি নিয়ে মেট্রোরেল চালু রাখার প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা একাধিক ট্রায়াল রান করেছি। যখন দেখেছি বড় কোনো সমস্যা নেই, তখনই যাত্রী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছি।”

এত বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পর গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় ফাটল দেখা দেওয়ায় যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পাকিস্তানে আঠা কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ৬ শিশুসহ নিহত ১৬

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি আঠা (গ্লু) তৈরির কারখানায় গ্যাস লিক থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ফয়সালাবাদে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে ফয়সালাবাদ এলাকার ওই কারখানাটিতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ফয়সালাবাদের কমিশনার রাজা জাহাঙ্গীর আনোয়ার জানান, কারখানার রাসায়নিকের গুদামে গ্যাস লিক হয়েছিল। সেখান থেকেই প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরবর্তীতে তা ভয়াবহ বিস্ফোরণে রূপ নেয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত:
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে কারখানাটি ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের প্রভাবে কারখানার আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ির ছাদ উড়ে যায় এবং অন্তত তিনটি বাড়িতে আগুন ধরে যায়।
হতাহতদের অধিকাংশই কারখানার শ্রমিক নন বরং আশপাশের আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। ধসে পড়া দেয়াল ও আগুনের ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। নিহত ১৬ জনের মধ্যে ৬ জনই শিশু বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসা:
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অনেককে টেনে বের করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাতজনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই অবহেলার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কারখানার ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই কারখানার মালিক পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহে সংঘর্ষ, আহত ১০

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাকড়ি গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশীকে মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত, গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বাকড়ি গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। এই অনুষ্ঠানে তিনি তার প্রতিবেশী শাহিন উদ্দিনকে দাওয়াত দেননি। দাওয়াত না পাওয়ার বিষয়টি শাহিন উদ্দিন ও তার সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং শুক্রবার রাতেই এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরদিন শনিবার সকালে এই উত্তেজনার জেরে শাহিন উদ্দিনের নেতৃত্বে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়।এ সময় রফিকুল ইসলামের লোকজনও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।

সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা না গেলেও তাদের চিকিৎসা চলছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

তীব্র আতঙ্কের মধ্যেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ

ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষত না শুকাতেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ। শুক্রবারের তীব্র কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে আবারও অনুভূত হলো ঝাঁকুনি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর জানান, শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩। এটি একটি মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প বা ‘আফটার শক’ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার অদূরে সাভারের বাইপাইল এলাকায়।

এর ঠিক একদিন আগে, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের আঘাতে বিপর্যস্ত হয় দেশ। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।
শুক্রবার আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনটি স্থায়ী ছিল ২৬ সেকেন্ড।

শুক্রবারের ওই ভূমিকম্পে তিন জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং ভবন ধসে আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ। রাজধানী ঢাকার বহু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বেশ কিছু ভবন হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে।
পরপর দুই দিন ভূমিকম্পের ঘটনায় নগরবাসীদের মধ্যে চরম ভীতি বিরাজ করছে। অনেকেই আতঙ্কে বহুতল ভবন ছেড়ে খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ভূমিকম্পের পর সাধারণত এমন ছোট ছোট ‘আফটার শক’ বা অনুকম্পন অনুভূত হতে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।