ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা যদি ইরানে হামলা না চালাত, তবে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়ে যেত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, হোয়াইট হাউসে যুদ্ধ সংক্রান্ত নয় এমন একটি বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে আঘাত না করতাম, তাহলে তারা (ইরান) একটি পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত।”
ইরানের শীর্ষ নেতাদের ইঙ্গিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, “পাগলাটে মানুষদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে খারাপ কিছুই ঘটে।” তিনি দাবি করেন, বিশ্বকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে বাঁচাতেই ইরানে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাপরিচালক গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেন, “ইরান পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো নেই। তবে তাদের কাছে প্রায় অস্ত্রের পর্যায়ে ব্যবহারের উপযোগী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় মজুদ রয়েছে। এছাড়া পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার না দেওয়া গভীর উদ্বেগের কারণ।”
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই দাবি মানতে নারাজ।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে খবর পাওয়া গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পুরো আকাশসীমা দখলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।