গরু কেনার টাকা পকেটে পুরে মালিকের অজান্তেই প্রতিবেশী এক ব্যক্তির চুরি করা গরু জবাই করে ইফতার মাহফিলে খাওয়ালেন বাড়ির কেয়ারটেকার। সিলেটের ওসমানীনগরে এমন এক লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়ে এলাকাছাড়া হয়েছেন ওই কেয়ারটেকার। অন্যদিকে, এই ঘটনায় সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে লজ্জায় দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন ইফতারের আয়োজক প্রবাসী।
গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ওসমানীনগরের পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুখাপন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ‘ইউনাইটেড গলমুখাপন ট্রাস্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজাদ আহমদ সাদ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বিশাল ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আয়োজনের মূল দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোহাম্মদ আহমদ মধু এবং সাধারণ সম্পাদক বুরহান মিয়া। ওই ইফতারে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় সহস্রাধিক রোজাদার অংশ নেন।
ইফতারের আগের দিন গ্রামের নাজমুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির একটি গরু মাঠ থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তিনি গরুটি পাননি। পরে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে গ্রামবাসী প্রবাসী আহমদ মধুর বাড়িতে গিয়ে কৈফিয়ত চান।
এ সময় বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, ইফতারের জন্য প্রবাসী আহমদ মধু তার কেয়ারটেকার সাঈদীকে তিনটি গরু কেনার টাকা দিলেও, সাঈদী একটি গরু না কিনে নাজমুল ইসলামের হারিয়ে যাওয়া গরুটি মাঠ থেকে ধরে এনে জবাই করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে চুরির প্রমাণ পাওয়ার পর প্রবাসী আহমদ মধু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গরুর মালিক নাজমুল ইসলামকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করেন। তবে এমন ঘটনায় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ায় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতেই তিনি তড়িঘড়ি করে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেন।
দেশ ছাড়ার আগে প্রবাসী আহমদ মধু একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, তিনি এই চুরির বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং কেয়ারটেকার তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত কেয়ারটেকার সাঈদী ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া জানান, “বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”