লাইফস্টাইল

হতাশ হয়ে পড়েন সহজেই? বিনা ওষুধে সুস্থ হয়ে উঠুন

মন-মেজাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে দিনভর অস্বস্তি। ঘন ঘন হতাশ হওয়া যেন কেড়ে নেয় দিনের অনেকটা আনন্দ। কিন্তু জানেন কি, যে সব খাবার আপনি প্রতি দিন খান, তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আপনার মনখারাপের বীজ। বরং খাদ্যতালিকা থেকে এ সব বাদ দিলেই কাটবে হতাশার মেঘ। দেখে নিন কী কী খাবার অজান্তেই বাড়িয়ে চলেছে আপনার হতাশা।

খাবার কেনার সময় তার উপাদান দেখুন, যদি প্যাকেটের গায়ে বিসফেনল এ (বিপিএ) লেখাটা দেখেন তা হলে সেই খাবার আজই বাদ দিন। বিপিএ আসলে প্লাস্টিকের বস্তু তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। বেশির ভাগ ক্যান বন্দি খাবারেই বিপিএ থাকে। রাসয়নবিদ সুজাত দে-র মতে, বিপিএ মস্তিষ্কের স্নায়ুতে প্রভাব বিস্তার করে তাকে নিস্তেজ করে দিতে পারে। তাই এড়িয়ে চলুন সে সব।

যতটা পারেন এড়িয়ে চলুন চিনি। চিনির অনেক খারাপ প্রভাবের মধ্যে এ-ও একটি। চিনিতে থাকা গ্লুকোজ শরীরের গ্লাইকোজেনের মাত্রা বাড়ানোর সঙ্গে বাড়িয়ে দিতে পারে হতাশাও। সাময়িক উত্তেজনা বাড়াতে চিনি অনেক সময় দরকারি হয়ে পড়লেও সেই উত্তেজনার সময় পার হলেই তা পেশীকে ক্লান্ত করে তোলে।

প্রচুর কোল্ড ড্রিঙ্ক খান? এতে থাকা সোডা কিন্তু বিপদে ফেলছে আপনাকে। এমনিতেই ঠান্ডা পানীয় শরীরে প্রবেশ করে জলের চাহিদা বাড়িয়ে তোলে, তার সঙ্গে এতে থাকা সরল শর্করা শরীরের মধ্যে জলের অভাব ঘটিয়ে তাকে করে তোলে ক্লান্ত। যার প্রভাব পডে় মনের উপরও। তাই শুধু ওবেসিটির ভয় থেকেই নয়, হতাশা কাটাতেও দূরে থাকুন এর থেকে।

মনখারাপ হলে অ্যালকোহলের শরণ নিয়ে থাকেন? তা হলে আজই বাদ দিন সে স্বভাব। সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে আপনাকে তা আরাম দিলেও পরক্ষণেই শরীরের স্নায়ুতে ক্লান্তি ছড়িয়ে দিতে এর জুড়ি নেই। জনস্বাস্য্ই বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, অ্যালকোহল শরীরের মধ্যে গিয়েভেঙে কিছু অক্সালিক অ্যাসিড তৈরি করে যা দ্রুত পেশীক্লান্তি ঘটায়।

প্যাকেটবন্দি নোনতা বাদামও এড়িয়ে চলুন। এতে প্রচুর পরিমাণ সোডিয়াম থাকে, যা শরীরের ভিতর ভেঙে মোনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (এমএসজি) তৈরি করে। যা শরীরকে ভারী করার সঙ্গে ক্লান্ত করে, তার হাত ধরেই আসে হাতাশা। তাই বাদাম খেলে চেষ্টা করুন বাড়িতে শুকনো খেলায় ভেজে, নুন ছাড়া খেতে।

প্যাকেটজাত ফলের রস খেয়েই ভাবেন প্রয়োজনীয় ফলের পুষ্টিগুণ শরীরে প্রবেশ করছে? তা হলে সম্পূর্ণ ভুল ভাবছেন। প্যাকেটে দীর্ঘদিন ফলের রস তাজা রাখতে এতে অতিরিক্ত চিনি তো মেশেই, সঙ্গে মেশানো হয় নানা রাসায়নিক— যারা চর্মরোগের জন্যও দায়ী। এরাই স্নায়ুকে ক্লান্ত করে। তাই ফলের উপকারিতা পেতে আস্থা রাখুন টাটকা গোটা ফলে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *