1. admin@dhakareport.com : Dhakareport.com :
ভয়াবহ এক ইকোনমিক একটা ডিজাস্টার আসতে যাচ্ছে এটা নিয়ে কোন সংশয় নেই - Dhaka Report
শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৩১ অপরাহ্ন

ভয়াবহ এক ইকোনমিক একটা ডিজাস্টার আসতে যাচ্ছে এটা নিয়ে কোন সংশয় নেই

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪৬০ বার

লেখাটি আরিফ আর হোসাইন এর ফেসবুক টাইমলাইনে থেকে সংগ্রহিত।

সামান্য চাকুরীজীবীদের কি অবস্থা আমি বুঝতে পারছি

আমি সামান্য ব্যবসা করি… গত দেড় মাস থেকে আমার জিরো ইনকাম… কিন্তু তারপরেও আমার ৭৩ জন এমপ্লয়ীকে আমার এই মাসে বেতন দিতে হবে

এই মাসটা কোনভাবে হয়ত দিতে পারব… পরের মাসের কথা জানি না

আবার একবার ভাবছি, এ মাসে অর্ধেক বেতন দিবো

একবার ভাবছি ছোট পোস্টে (পিওন, ড্রাইভার, সিকিউরিটি গার্ড এরকম) যারা আছে তাদের ফুল বেতন দিবো আর বড় পোস্টে যারা আছে তাদের হয়ত অর্ধেক দিব

তারপর ভাবলাম কষ্ট তো বড় জনদেরও কম না

এরা প্রত্যেকেই একটা মাসিক বাজেট মেইন্টেইন করে… বাসা ভাড়া, বাচ্চার স্কুলের ফি, বাজারের খরচ, মোবাইল খরচ, ডিস বিল… বলে শেষ করা যাবে না

অর্ধেক বেতন দিলে এরা কেমনে চলবে তাও জানি না

কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই… আমার জিরো ইনকাম গত দেড় মাসে… সামনের মাসে কি হবে তাও জানি না

আমার এক বন্ধু, এক্সপোর্ট-ইনপোর্টের ব্যবসা করে

তারও একই অবস্থা কারণ এই গ্লোবাল ডিজাস্টারের কারণে সে তার এক্সপোর্ট ইনপোর্ট একদমই বন্ধ

আমার আরেক বন্ধু আর্কিটেক্ট… বুয়েট থেকে পাশ করে বেশ ভালো এক কোম্পানিতে জব করে এখন

তাকে সেই কোম্পানি বলেছে এই মাসে অর্ধেক বেতন দিবে… কারণ দেশের মানুষ খেতে পারছে না, এপার্টমেন্ট কিনবে কেমনে? আমার এই মুহূর্তে আর্কিটেক্ট লাগবে না… থাকলে আধা বেতনে থাকো, না থাকলে সরি ভাই

আমি তার কোম্পানির অবস্থাও বুঝছি, আমার বন্ধুটার অবস্থাও বুঝছি

দেশের অবস্থাও বুঝছি, বিদেশের অবস্থাও বুঝছি

শুধু বুঝছি না এই অবস্থায় করণীয় কি

আজকে সকালে ব্যাংকে যেয়ে আমি আমার দুই মেয়ের স্কুলের বেতন দিয়ে আসলাম কারণ স্কুল থেকে বার বার নক করছিল

আমি লাইনে দাঁড়িয়ে এমন অনেক বাবাদের দেখলাম যারা অনেক কষ্টে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছে

অনেক কষ্টে মানে, ধাক্কা ধাক্কি করে না… বরং অনিচ্ছা সত্তে

তারপরেও এসেছে কারণ নিজে হয়ত একটু কম খেয়ে বা নতুন শার্ট কয়েকমাস না বানিয়ে থাকতে পারবে কিন্তু বাচ্চার ক্ষেত্রে তো সেক্রিফাইস করা যাবে না

আমি শিওর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় যদি স্কুল থেকে এসএমএস আসে যে এই মাসে বেতন দেয়া লাগবে না বা অর্ধেক বেতন দিলে হবে, আমি শিওর প্রত্যেকেই খুশিতে নড়েচড়ে উঠবে

বিড়বিড় করে ‘যাই তাহলে বাসার সেই জরুরী জিনিসটা কিনে ফেলি’ বলে ব্যাংক থেকে বের হবে

আমি কোনদিন ভাবিনি এরকম একটা লেখা আমার লিখতে হবে

আমি স্কুলগুলোর অবস্থাও বুঝছি… আপনাদেরকেও স্টাফ, ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের বেতন দিয়ে যেতে হচ্ছে… আপনাদেরকেও তো চলতে হবে

তারপরেও বলছি যতটুকু সম্ভব মৌকুফ করে দেন

কিছুটা হলেও কিন্তু কমানোর সুযোগ আছে… যেমন আপনাদের কারেন্ট বিল এখন হচ্ছে না… হচ্ছে না পানির বা গ্যাসের খরচ

এটা যদি টোটাল খরচের ২৫%ও হয়, প্লীজ নিয়েন না এই টাকাটা

এই ২৫% সাশ্রয়ের ১০০% ব্যবহার একটা মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি সুন্দর ভাবে করে নিতে পারবে

প্লীজ একটু দেখেন কতোটুকু কি করার সুযোগ আছে

পজিটিভ মাইন্ড নিয়ে দেখলে অবশ্যই একটা না একটা কিছু বের করতে পারবে ঢাকার প্রাইভেট স্কুলের কর্তৃপক্ষরা

অবশ্যই পারবে

বা, একদমই না পারলে এমন ভাবে করেন যেন বছরে যেয়ে আপনাদের স্ল্যাবটা ঠিক থাকে… সামনের ২/৩ মাস কিছু কম নেন… পরের দিকে আবার নাহয় ঠিক করে নিয়েন বা, বেশী নিয়ে পুষিয়ে দিয়েন তখন

কারণ, আমরাও চাই না আমাদের বাচ্চাদের পড়াশোনার কোয়ালিটি সেক্রিফাইস হোক

কিন্তু বেঁচে তো থাকতে হবে আগে সেই সেক্রিফাইসটা করার জন্য

Please Share This Post in Your Social Media

এ জাতীয় আরো সংবাদ




Shares