মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৪ মে) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাজুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই রায় ঘোষণা করা হলো। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়াকে দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত ও মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫ সালের) ১৬ জুন সকালে শিশুটির বাবা গ্রামের মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। সকালের দিকে বাবার জন্য খাবার নিয়ে মাঠে যাচ্ছিল ওই শিশুটি। একই সময়ে ওই মাঠে ঘাস কাটছিল চাঁদপুর গ্রামের যুবক শাকিল হোসেন। নির্জন মাঠে শিশুটিকে একা পেয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে শাকিল।
একপর্যায়ে শাকিলের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাবার কাছে পৌঁছায় শিশুটি এবং ঘটনা খুলে বলে। ওই দিনই শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গাংনী থানায় শাকিলের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে আদালত মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও শুনানি শেষে আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তুহিন অরণ্য। তিনি বলেন, “আইনে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিচারকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মাত্র ২৯ কার্যদিবসে এই রায় ঘোষণা দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি বড় দৃষ্টান্ত।”
পিপি আরও বলেন, মেহেরপুর বিচারালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে এই দ্রুত বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে যেমন আস্থা বাড়াবে, তেমনি অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।