অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যা এবং তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তুমুল আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। অভিযোগ উঠেছে, আলভীর সঙ্গে তিথির পরকীয়া সম্পর্কের জেরেই অভিমান ও ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছেন ইকরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল সমালোচনা, ট্রল ও নেতিবাচক প্রচার। অবশেষে নিজের অতীত এবং বর্তমান বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী তিথি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তিথির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে যে, তিনি অন্যের সংসার ভাঙায় পারদর্শী এবং জাহের আলভীর আগেও তিনি এক নারীর সংসার ভেঙে তার স্বামীকে বিয়ে করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এসব অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে তিথি বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার সাবেক স্বামী যখন আমাকে বিয়ে করেন, তখন তিনি আগে থেকেই ডিভোর্সড ছিলেন। সুতরাং এখানে কারও ঘর ভাঙার প্রশ্নই ওঠে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক স্বামীর আগের সংসারের দুই সন্তানের সঙ্গে তিনি একই বাসায় থাকতেন এবং তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার ছিল। এমনকি বিচ্ছেদের পরও সাবেক স্বামীর মেয়ের সঙ্গে তার মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হয়।
নিজের বিবাহবিচ্ছেদ এবং বর্তমান ট্রল প্রসঙ্গে তিথি বলেন, “বনিবনা না হলে জোর করে সংসার করার চেয়ে বিচ্ছেদই ভালো।” সংসারে অশান্তি নিয়ে টিকে থাকার চেয়ে নিজের সম্মান ও প্রাণ বাঁচানো জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলেন, “লাশ হয়ে বের হওয়ার চেয়ে ডিভোর্সি ট্যাগ নিয়ে বেঁচে থাকা অনেক ভালো।”
তিথি স্পষ্ট জানান, বনিবনা হচ্ছিল না বলেই তিনি আগের সংসার থেকে স্বেচ্ছায় ডিভোর্স নিয়েছিলেন। এই পরিচয় নিয়ে চলতে তার কোনো দ্বিধা নেই। তবে জাহের আলভী ও ইকরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার অতীত টেনে আনাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিথি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেহেতু সব কিছু আইনিভাবেই শেষ হয়েছে, তাই এখন কেন নতুন করে আমার ডিভোর্সি হওয়া বা অতীত নিয়ে কথা উঠবে?”
উল্লেখ্য, ইকরাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে জাহের আলভীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তিথিকেও আসামি করা হয়েছিল। তবে শোনা যাচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।