বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
২০২৬ সালে হজে যাচ্ছেন ৭৬ হাজার ৫৮০ বাংলাদেশি, ফ্লাইট শুরু ১৮ এপ্রিল দেব-শুভশ্রীর বিয়ে হলে ভালোই হতো: রাজ চক্রবর্তী অ্যান্টার্কটিকার বরফের ৪ হাজার ফুট নিচে মিলল প্রাচীন জঙ্গল ও নদীর অস্তিত্ব! অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই সানডে মানডে ক্লোজ করে দিতাম : ভবঘুরে সম্রাট বাসরঘরে মুখ ধোয়ার পর ‘অচেনা’ নববধূ: কনে বদলের অভিযোগ গড়িয়েছে আদালতে, বর কারাগারে আজ থেকে ৪ দিনের কর্মসূচিতে নামছেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা ফেসবুকের বিশ্বসেরা ১০০ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তারেক রহমান, পেছনে ফেললেন ট্রাম্পকেও আসন সমঝোতার টানাপোড়েন: ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই জামায়াতের বৈঠকে ৯ দলের নেতারা গুঞ্জনই সত্যি হলো: আজ বিয়ের পিঁড়িতে রাফসান সাবাব ও জেফার দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই সানডে মানডে ক্লোজ করে দিতাম : ভবঘুরে সম্রাট

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ Time View

সাভারে গত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) নামের এক সিরিয়াল কিলারকে, যার কাছে মানুষ খুন করা ছিল একধরণের ‘নেশা’। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই ঠান্ডা মাথার খুনি জানিয়েছেন, হত্যা করাকে তিনি কোড ল্যাঙ্গুয়েজ বা সংকেত হিসেবে ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ বলে অভিহিত করতেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি সাভারে সংঘটিত ৬টি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।


তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ভবঘুরে সম্রাট মূলত মাদকাসক্ত। অতিরিক্ত নেশার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, “কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই তাদের ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ করে দিতাম।” অর্থাৎ, তাদের হত্যা করে ফেলতেন।

সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, “সম্রাট মানসিক রোগী নন, তবে অতিরিক্ত নেশাই তাকে খুনির রূপে নিয়ে গেছে। মশিউর রহমান সম্রাট তার আসল নাম নয়, আত্মগোপনের জন্য তিনি এই নাম ব্যবহার করতেন। তার আসল পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।”


পুলিশ জানায়, সাভারে আসার পর সম্রাট প্রথমে সাভার মডেল মসজিদে রাত কাটাতেন। এরপর তিনি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আস্তানা গাড়েন।

 ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার মধ্য দিয়ে তিনি এই হত্যাযজ্ঞ শুরু করেন। গত পাঁচ মাসে ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে একের পর এক ৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে এতদিন তাকে ধরা সম্ভব হয়নি।


পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে নজরদারির সময় ওই পরিত্যক্ত ভবনে সম্রাটের বিছানায় এক কিশোরীকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। রোববার দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ সম্রাটের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে এবং সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে।


সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, “আসামি আদালতে ৬টি খুনের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দিনের বেলায় থানার আশপাশে ঘুরতেন এবং গভীর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও ফুটওভার ব্রিজ এলাকা থেকে ভবঘুরে নারী-পুরুষদের ফুসলিয়ে ওই ভবনে নিয়ে হত্যা করতেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এর বাইরে তিনি আরও কোনো অপরাধে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

Authors

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *