1. admin@dhakareport.com : Dhakareport.com :
সৎ উপার্জন পরিবারকে সঠিক শিক্ষা দেয় আবার পরকালে ও শান্তি : আনিসুর রহমান - Dhaka Report
শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

সৎ উপার্জন পরিবারকে সঠিক শিক্ষা দেয় আবার পরকালে ও শান্তি : আনিসুর রহমান

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ৭২ বার

১.ওয়ান ইলেভেনের সময় একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গ্রেফতার হলেন। সাথে তাঁর স্ত্রী। এ সময় তাদের সম্পদের তদন্ত করা হচ্ছিলো। দায়িত্ব প্রাপ্ত টাস্ক ফোর্সের সদস্য হিসেবে ভদ্রমহিলাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ বিপুল সম্পদ জোগাড়ের উৎস সম্পর্কে আপনার কিছু বলার আছে?
তিনি উত্তর দিলেন, আমার হাজবেন্ডকে জিজ্ঞেস করুন। তাকে আপনারা জেলে দিন, ফাঁসি দিন, কিন্তু আমাকে নিয়ে টানাটানি করছেন কেন? আমি বললাম, কিন্তু আপনি তো তার সম্পদের সুবিধাভোগী!
কথা শেষ হওয়ার আগেই তিনি বললেন, আমি তাকে বলিনি চুরি করে আমাকে সম্পদ বানিয়ে দিতে। সে দিয়েছে, আমি ভোগ করেছি। আমার কী দোষ? তাকে শাস্তি দিন, আমাকে নয়। তার পাপের শাস্তি আমাকে কেন দেবেন?

২. আরেকজন। বাড়ির সংখ্যা কুড়ির ওপর। জিজ্ঞেস করলাম, ভাই, এত বাড়ি কেন করলেন? কার জন্য? কয়টা বাড়ি এক জীবনে লাগে?
উত্তর দিলেন, স্যার, প্রথম বাড়িটি করার পর কেমন নেশার মতো হয়ে গেলো। কেন এত বাড়ি করলাম নিজেও জানি না।
এর কিছুদিন পর জামিনে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কয়েক দিন পর তার আইনজীবী মৃত্যুর খবর দেওয়ার জন্য অফিসে এলেন। তখন শুনলাম ভয়ংকর এক কাহিনী।
ভদ্রলোকের নাকি দুই বিয়ে ছিলো। তার লাশ উঠানে ফেলে দুই পক্ষ তীব্র ঝগড়ায় মাতলো সম্পত্তির বিলি বণ্টন নিয়ে। উভয় পক্ষের জিদ তাকে দাফন করার আগেই এ বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। অনেকে বুঝালেন যা হবে আইন অনুযায়ী হবে। কে শোনে কার কথা। উভয় পক্ষের দাবী তাঁদের প্রাপ্যতা বেশি।
তারা ঝগড়া করছেন আর সম্পদ উপার্জনকারীর লাশ উঠানে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে!

৩. অন্য আরেকজন। অতি পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন।
আমার সাথে দেখা এ শতকের প্রথম দিকে। তখন তার বয়স প্রায় পঁচাশি। আমি একবার জিজ্ঞেস করলাম, স্যার, কিছু মনে করবেন না, এ বয়সে আপনার কি এতো ঝামেলা করে অফিসে অফিসে ঘুরার দরকার আছে? বাড়িতে আর কেউ নেই?
তার চেহারা কুঁচকে গেলো, সেখানে কিলবিল করতে লাগলো হতাশা। তিনি বললেন, আপনি আমার পুত্র না, নাতির বয়সী। আপনাকে একটি কথা বলি, চাকুরী জীবনে আমি প্রয়োজনের চাইতে বেশি কামিয়েছিলাম। সেটিই আমার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি মাত্র ছেলে। পড়াশুনা করেনি। সারাদিন ঘুমায় আর সন্ধ্যা হলে ক্লাবে গিয়ে মদ নিয়ে বসে। মাঝরাতে পাঁড় মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ভোরের দিকে ঘুমায়। তারপর সারাদিন বিছানায়। বিয়ে-শাদিও করাতে পারি নাই। বলতে বলতে তিনি কাছে ঝুঁকে বললেন, ভাই, আমার ছেলে মানুষ হয় নাই কেন জানেন? আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি বলতে লাগলেন, কারণ সে জানে তার বাবার টাকা এক জন্মে খেয়ে সে শেষ করতে পারবে না। আমি যদি প্রয়োজনের বেশি উপার্জন না করতাম তাহলে এটা হতো না। সন্তান ‘অমানুষ’ হওয়ার মতো কষ্ট আর কিছুতে নেই ভাই।
উপরের ভয়ংকর অভিজ্ঞতাগুলি কর কমিশনার জনাব বাদল সৈয়দ সাহেবের বলে ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।
আমি চেয়ারম্যান হিসাবে গত পাঁচ বছরে গ্রাম আদালত পরিচালনা করতে গিয়ে এই রকম অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী হয়েছি। একজন পিতা ডজন খানেক সন্তান এবং বহু সম্পত্তি পৃথিবীতে রেখে যাওয়ার পরে তার সন্তানেরা সামান্য কয়েক লাখ টাকার জিম্মা নিতে রাজি হয়নি!
বহু ঘটনা জানি, ভাই ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে। বহু লোক আপন বোনের হক তো দেয়ই নাই উল্টা তাদেরকে সামাজিক স্বীকৃতি দিতেও অনীহা প্রকাশ করেছে! আবার পরবর্তীতে তাদের সন্তানরাও একই পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছে।
অথচ তারা সবাই পৃথিবী থেকে যাওয়ার সময় খালি হাতে গিয়েছে।
আমরা ভুলে যাই যে, উপার্জনের দায়ভার ইহকালে বা পরকালে অন্য কেউ কখনোই নেবে না।
এখনো সময় আছে, আসুন সকলে সকলের হক বুঝিয়ে দিয়ে নিজের আখিরাতকে পরিচ্ছন্ন রাখি।
(ছবিটি “গ্রাম আদালত” পরিচালনার সময়ে তোলা। ছবির কেউ আলোচিত কোন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়)

লেখক:আনিসুর রহমান (ডেপুটি ম্যানেজার তমা গ্রুপ) বরগাও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী

Please Share This Post in Your Social Media

এ জাতীয় আরো সংবাদ




Shares