1. admin@dhakareport.com : Dhakareport.com :
চলে গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ - Dhaka Report
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন

চলে গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৫ বার

প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ আর নেই। কয়েক মাস ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগার পর গেল সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এবার পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। 

জীবনানন্দ দাশের পর বাংলা কবিতায় শক্তি-সুনীল-শঙ্খ-উৎপল-বিনয়ের মধ্যে চারজন আগেই চলে গেছেন। এবার শঙ্খ ঘোষের অসীমের পথে যাত্রায় বাংলা কবিতা তথা বাংলা সাহিত্যের আরও একটি যুগের সমাপ্তি হলো।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন শঙ্খ ঘোষ। হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন। করোনাকালে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। 

গতকাল মঙ্গলবার রাতে হঠাৎেই কবির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাঁকে ভেন্টিলেটরে দেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যথ করে চলে গেলেন কবি। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ভেন্টিলেটর খুলে নেয়া হয়।

১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বর্তমান চাঁদপুর জেলায় বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক শঙ্খ ঘোষের জন্ম। তাঁর প্রকৃতি নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। পিতা মনীন্দ্রকুমার ঘোষ ও মাতা অমলা ঘোষ। বংশানুক্রমিকভাবে কবির পৈত্রিক বাড়ি বরিশালের বানারিপাড়ায়। তবে কবির বেড়ে উঠা পাবনায়। পিতার কর্মস্থল হওয়ায় সেখানে কবি বেশ কয়েক বছর অবস্থান করেন এবং পাবনার চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলায় কলা বিভাগে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কবি শঙ্খ ঘোষ দুই বাংলার কাব্যপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয় ছিলেন।

প্রখ্যাত এই রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ কাব্যসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ দাশের উত্তরসূরি। যাদবপুর, দিল্লি ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৯২ সালে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন। বছর দুই আগে ‘মাটি’ নামের একটি কবিতায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন কবি।

বাংলা কবিতায় শঙ্খ ঘোষের অবদান অপরিসীম। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘দিনগুলি রাতগুলি’, ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’ অন্যতম। 

‘বাবরের প্রার্থনা’ গ্রন্থের জন্য ১৯৭৭ সালে তিনি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৯ সালে কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় ‘রক্তকল্যাণ’ নাটক অনুবাদ করেও সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান তিনি। এছাড়াও ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য-সম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কার, রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মানে ভূষিত হন কবি। ২০১১ সালে কবিকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করা হয়।

সৃষ্টিজীবনে তাঁর ঝুলিতে অসংখ্য পাঠকনন্দিত কবিতা ও গদ্যের বই রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এ জাতীয় আরো সংবাদ




Shares