1. admin@dhakareport.com : Dhakareport.com :
মোস্তাক আহাম্মেদের সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প! - Dhaka Report
রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন

মোস্তাক আহাম্মেদের সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প!

Ripon Salahuddin
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৯২ বার

বর্তমানে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ ৷ বাংলাদেশে আধুনিকায়নের ছোয়া পৌছে দিতে সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত ব্যক্তির কোন বিকল্প নেই ৷ দেশ উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন উচ্চশিক্ষা ৷ তাই দেশে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখে ৷ কিন্তু বাংলাদেশে এই বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা প্রদানের জন্য দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সংখ্যা অনেক কম ৷ তাই বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহনের জন্য বিদেশে পাড়ি জমান ৷ কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে সঠিক ভাবে অবগত থাকে না ৷ শিক্ষার্থীদের এই অজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতি বছর অনেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান সহজ সরল ছাত্রছাত্রীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে ৷ তাই শিক্ষার্থীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে ধাপে ধাপে গাইড করে থাকেন তরুন শিক্ষা উদ্যোক্তা ও গ্লোবাল প্রসেস লিমিটেড এর সিইও মোস্তাক আহাম্মেদ শান্ত ৷

আজকে ঢাকা রিপোর্ট উদ্যোক্তা ডেস্কের সাক্ষাৎকার থেকে আমরা একজন শিক্ষা উদ্যোক্তার গল্প জানবো, যিনি দেশের শিক্ষার্থীদের বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের পদ্ধতি, ভিসা সহ অন্যান্য সকল বিষয়ে সাহায্য করে থাকেন ৷ বাইশ বছর বয়সী এই তরুণ ‘মোস্তাক আহাম্মেদ শান্ত’ একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা ৷ অল্প বয়সেই তিনি এখন বাংলাদেশের শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ও এই সেক্টরে রয়েছে তার সাফল্যের প্রতিচ্ছবি ।

মোস্তাকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন শহর ময়মনসিংহে । বর্তমানে চায়না থ্রি গরজেস ইউনিভার্সিটির মেডিকেল শিক্ষার্থী মোস্তাক আহাম্মেদ । পড়াশোনার পাশাপাশ দেশের শিক্ষার্থীদের সাহায্য করার লক্ষেই ঢাকাতে গড়ে তুলেছেন ‘গ্লোবাল প্রসেস লিমিটেড’ নামে স্টুডেন্ট কন্সালটেন্সী ফার্ম ৷

ঢাকা রিপোর্ট : পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষা উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন ?

মোস্তাক: আমার শিক্ষা জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে উচ্চশিক্ষা ৷ কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে, এতে করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণেচ্ছু শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে ৷ দেশের এই হতাশাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করবো এটাই আমার মনের ভেতর সবসময় তাড়া করতো ৷

ঢাকা রিপোর্ট : শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার পরিকল্পনা করেছিলেন কেন?

মোস্তাক: দেশে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীর জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিট সংখ্যা অনেক কম ৷ তাই শিক্ষার এই দৈনতা দূর করার পরিকল্পনা নিয়েই বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করা ৷ আপাতত এশিয়া ও ইউরোপ এর বিভিন্ন দেশে ওয়াল্ড রেংকিং এ ভালো ইউনিভার্সিটি গুলোতে কাজ করছি । আমার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্কলারশীপ সহ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সেখানে এডমিশন ও এ্যাকোমোডেশন করাই আমাদের কাজ ৷

ঢাকা রিপোর্ট : বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য কি কি কাজ করছেন ?

মোস্তাক: দেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ অপ্রতুল, বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে কে জনশক্তিতে রুপান্তর করতে হলে উচ্চশিক্ষা অগ্রনি ভুমিকা পালন করে ৷ শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন দেখে বিদেশে ওয়াল্ড রেংকিং ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ৷ আমার নেতৃত্বে ‘গ্লোবাল প্রসেস লিমিটেড’ শিক্ষার্থীদের বিদেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার ব্যবস্থা করে থাকে ৷
শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, পড়াশোনা, টিউশন ফি ব্যবস্থাপনা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে থাকে আমার প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল প্রসেস লিমিটেড ৷

বর্তমানে চীন, মালয়শিয়া, ইন্ডিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন, কানাডা সহ ১০ টির বেশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া, ভিসা প্রসেসিং সহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করেছি ৷ এছাড়া বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি সহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিয়জিত আছি ৷

ঢাকা রিপোর্ট : আপনার শিক্ষা উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে কার/কাদের ভূমিকা বেশি ছিল ?

মোস্তাক: আমি এখনো শিখছি ও স্বপ্নের পেছনে লেগে আছি। আমার শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসাবে জীবনের শুরুতে পরিবার থেকে সহোযোগিতা পেয়েছি ৷
পরিবারের বাইরে যাদের থেকে আমি বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি, তাদের মধ্যে একজন মানুষের নাম না বললেই নয়, আমার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ শিক্ষা উদ্যোক্তা
বিএসবি ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এম. কে. বাশার স্যার ৷

ঢাকা রিপোর্ট : শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেয়েছেন ও পাচ্ছেন ?

মোস্তাক: আমার উদ্যোগের শুরুতে আশেপাশের অনেক মানুষ অনেক কথা বলেছিল, তারপরেও আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পেরে গর্ববোধ করি ৷ আল্লাহ্ রহমতে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি ৷ আমাদের থেকে পরামর্শ নিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বহি:বিশ্বের সুনামের সাথে পড়াশোনা করছে ৷ তাছাড়া করোনা মহামারির সময় আমরা অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছি ৷ আমি চাই কেউ যেন বিদেশে উচ্চ শিক্ষার গ্রহণ করতে গিয়ে বিভ্রান্ত না হয় ৷

ঢাকা রিপোর্ট : শুরুতে প্রতিবন্ধকতা কেমন ছিল ?

মোস্তাক: উদ্যোক্তা জীবনের শুরুর দিকে কিছুটা বাঁধা পড়েছিলাম। কারণ, যাবতীয় ডকুমেন্টেশন সংগ্রহ করা সহজ নয় ৷ প্রতিষ্ঠানের বৈধ্য কাগজপত্র তৈরিতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আল্লাহ্ রহমতে সব কিছু সঠিক ভাবে করতে পেরেছি ৷ উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ না দেওয়া এবং নানাভাবে হেয় করে এমন মানসিকতার মানুষ গুলো অনেক সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতো।

ঢাকা রিপোর্ট : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ?

মোস্তাক: এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর ৷ আপাতত আমার প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকটি শাখা বিভাগীয় শহর গুলোতে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছি ৷ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য ও গরিব অসহায় ব্যাক্তিদের চিকিৎসার জন্য গ্লোবাল হেল্থ ইনিস্টিটিউট অফ মেডিকেল সাইন্স হাসপাতাল ও রিসার্চ সেন্টার (প্রস্তাবিত) গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি ৷
ইনশাআল্লহ

Please Share This Post in Your Social Media

এ জাতীয় আরো সংবাদ




Shares