1. admin@dhakareport.com : Dhakareport.com :
facebook.com.bd ডোমেইনটি দিয়ে কি লাভ হবে ফেসবুকের? - Dhaka Report
শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন

facebook.com.bd ডোমেইনটি দিয়ে কি লাভ হবে ফেসবুকের?

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৮০ বার

এটার মূল উদ্দেশ্য মূলত এই ডোমেইনটির মাধ্যমে ফেসবুকের পরিচিতি কিংবা সুনাম ব্যবহার করে অন্য কেউ এটাকে অন্যকোন ব্যবসায়িক কিংবা অপরাধমূলক কাজ ব্যবহার করতে পারে, তাই এটাকে প্রতিহত করা। ডটবিডি ডোমেইনটি মূলত রিডিরেক্ট হয়ে Facebook.com এই যাবে। এছাড়াও বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে কিছু বাড়তি সুবিধাও পাওয়া যাবে। ডটবিডি ডোমেইনটি মূলত রিডিরেক্ট হয়ে facebook.com এই যাবে, তারপরেও জোনালভিত্তিক বিভিন্ন কন্ট্রোল কিংবা ফিল্টারিংয়ে কিছুটা সুবিধা হবে।

গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট প্রযুক্তি বিশেষ করে ওয়েবসাইট এবং ইন্টারনেটনির্ভর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন প্রযুক্তিতে এসেছে কিছুটা পরিবর্তন, তাহলো- টার্গেট বেজড অডিয়েন্স এবং ইন্টারেস্ট বেজড অডিয়েন্স। অর্থ্যাৎ ইন্টারনেট নির্ভর বিভিন্ন সেবা কিংবা কনটেন্টগুলো এখন শুধু যার যার দরকার কিংবা যে চাইবে শুধু তার কাছেই যাবে অযথা অপ্রয়োজনীয় অডিয়েন্স এর কাছে গিয়ে তা জ্যাম বাধাবে না। এরফলে অডিয়েন্সরা একদিকে যেমন চাহিদামাফিক তাদের সেবাগুলো দ্রুত পাচ্ছে অন্যদিকে এই সেবায় ব্যবহৃত সার্ভারের লোড এবং ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের উপর চাপও কম পড়ছে। লক্ষ করলে দেখবেন এখন ইন্টারনেট সংযোগের সাথে আলাদা করে ইউটিউব এবং ফেসবুকের ব্যান্ডেউইথ বিক্রি হয়। এই প্রযুক্তির অপর নাম ক্যাশিং প্রযুক্তি। ব্যবহারকারীরা যাতে বেশি স্পীডে সাইট কিংবা অ্যাপস ব্রাউজ করতে পারে তার জন্য ইউটিউব এবং ফেসবুক বাংলাদেশেও অনেকগুলো ক্যাশিং সার্ভার বসিয়ে রেখেছে যার কাজই হলো- আমেরিকায় থাকা মূল সার্ভার এর সব তথ্য সার্বক্ষণিক এই ক্যাশ সার্ভারে রেখে দেওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে যখন কোন ব্যবহারকারী ইউটিউব কিংবা ফেসবুক ব্রাউজ করে তখন আসলে বাংলাদেশে তাদের বসানো ক্যাশ সার্ভার থেকেই তা ওপেন হয়।

প্রশ্ন থাকতে পারে এই facebook.com.bd ডোমেইনের সাথে ক্যাশ সার্ভারের সম্পর্ক কোথায়?

১. যেহেতু ব্যবহারকারীদেরকে দ্রুততম সময়ে ওয়েবসাইট কিংবা মোবাইল অ্যাপস ব্রাউজ করানোই মূল উদ্দেশ্য তাই যখনই বাংলাদেশ থেকে কোন ব্যবহারকারী ফেসবুকে লগইন করবে তখন সেই রিকয়েস্টটি আর বাংলাদেশের বাইরে যাবে না, এটি তখন লোকাল ইন্ট্রানেট এর মতো করে বাংলাদেশের মধ্যে থেকেই ওপেন হবে ফলে এটা অনেক দ্রুতগতির হবে। কিন্তু বর্তমানে যেটা হয় তাহলো- ব্রাউজারে যখন facebook.com লেখা হয় তখন “ICANN” (Internet Corporation for Assigned Names and Numbers) নিয়ন্ত্রিত ডোমেইন সার্ভার ঘুরে আসে। এভাবে ঘুরে আসতে হলে অনেকগুলো নেটওয়ার্ক হোপ পার হয়ে ঘুরে আসতে হয়, এরকম প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন রিকয়েস্ট পার হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই ব্যবহারকারীরা ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে যা অনেকেরই অজানা।

২. শুধু ব্যবহারকারীদেরকেই দ্রুতগতির ওয়েবসাইট উপহার দেওয়া নয় এখানে বাণিজ্যিকভাবে ফেসবুকের রয়েছে অনেক লাভ, তাহলো – টার্গেট বেজড বিজ্ঞাপণ পরিচালনা। এই করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে ডিজিটাল বিজ্ঞাপণ পেয়েছে ফেসবুক। তাই যখন লোকাল ডোমেইনের আওতায় চলে আসবে তখন দেশের মধ্যে টার্গেটভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রচারে অনেক সুবিধা হবে ফেসবুকের।

৩. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুকের কাছে দীর্ঘদিনের দাবী ছিল দেশিয় কনটেন্টগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশেই একটি মডেরেটর প্যানেল দেওয়া যার মাধ্যমে বিশেষ করে বিভিন্ন ফেক নিউজ, গুজব সংবাদ, প্রাইভেসি ও অ্যাডাল্ট কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ সহ ফেসবুকের মাধ্যমে অপরাধমূলক কার্যকলাপ পরিচালনাকারীদের খুঁজে বের করার কাজগুলো সহজেই করা যায়। facebook.com.bd ডোমেইনটি চালু হলে হয়তো বাংলাদেশের জন্য এই বিশেষ সুবিধা কিছুটা পাওয়া যেতে পারে।

৪. লোকাল নিউজ পরিবেশনায়ও সুবিধা হবে facebook.com.bd ডোমেইনের বদৌলতে। বিশ্বব্যাপী ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফেসবুক রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। গত বছর ফেসবুক শুধু নিউজ মনিটর করার জন্যই অনেক সদস্যের একটি নিউজ টিম নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু ইংরেজী ভাষা কিংবা অন্যান্য ভাষার নিউজ নিয়ন্ত্রণ করা যতটা সহজ হচ্ছে কিন্তু বাংলা ভাষার ফেক নিউজ মনিটর করাটা ততটা সহজ হচ্ছে না। তাছাড়া বাংলাদেশে ফেক নিউজ এবং গুজব ছড়ানোর পরিমাণটা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক অনেক গুন বেশি। তাই facebook.com.bd মাধ্যমে হয়তো এক সময় দেশিয় ফেক নিউজ মনিটর করার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।

যদিও আলাদা ডোমেইন ছাড়াও এখন পর্যন্ত শুধু facebook.com দিয়েই উপরোক্ত বেশিরভাগ সুবিধাগুলোই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, তারপরেও facebook.com.bd ডোমেইন যুক্ত হলে এই প্রক্রিয়াগুলো আরও বেশি স্পেসিফিক হবে।ডটবিডি ডোমেইনটি মূলত রিডিরেক্ট হয়ে facebook.com এই যাবে, তারপরেও জোনালভিত্তিক বিভিন্ন কন্ট্রোল কিংবা ফিল্টারিংয়ে কিছুটা সুবিধা হবে।

সবমিলিয়ে প্রতিটি দেশেই আলাদা আলাদা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করাই ফেসবুকের মূল উদ্দেশ্য, বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব দেশেই রয়েছে ফেসবুকের স্থানীয় অফিস, লোকাল ডোমেইন ইত্যাদি। এরফলে ব্যবসায়িকভাবে ফেসবুক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীরাও পাচ্ছে চাহিদামাফিক কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন কিংবা দ্রুতগতির ব্রাউজিং সুবিধা ।

বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দীন সেলিমের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

এ জাতীয় আরো সংবাদ




Shares