পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ কম পাওয়ায় ক্ষোভে নিজের জন্মদাতা বাবার কবর ভাঙচুর করেছেন এক ছেলে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) গাইবান্ধা সদর উপজেলার আনালের তাড়ি গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। বাবার কবরে ছেলের এমন তাণ্ডবের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ আনালের তাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মান্নান মিয়া মারা যাওয়ার আগে তার চার বিঘা সম্পত্তি পাঁচ ছেলের মাঝে বণ্টন করে দিয়ে যান। কিন্তু পঞ্চম ছেলে শাহ আলম মিয়া ওরফে শালুর অভিযোগ, বাবা তার দ্বিতীয় ছেলে ইকবাল মিয়াকে বেশি জমি দিয়েছেন।
বাবার কবরস্থানটি মূলত মেজ ছেলে ইকবাল মিয়ার পাওয়া জমির অংশেই ছিল। কিন্তু ছোট ভাই শাহ আলম জমি কম পাওয়ার ক্ষোভ থেকে ওই জায়গাটুকুও নিজের বলে দাবি করেন। এরই জেরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে তিনি সরাসরি বাবার কবরের ওপর উঠে বাঁশ ও খুঁটির বেড়া ভাঙচুর শুরু করেন।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত শাহ আলম মিয়া শালু একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। এই পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তিনি নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেন। সম্পত্তির লোভে বাবার কবরের অবমাননা করায় এলাকার মানুষ তাকে ধিক্কার জানাচ্ছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার। একজন সন্তান কীভাবে সম্পত্তির জন্য বাবার কবরে হামলা করতে পারে! আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ওই ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আলম মিয়া শালুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন খোলাহাটি ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আব্দুল হাই। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। স্থানীয়দের নিয়ে বসে সাময়িকভাবে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। তবে সম্পত্তির জন্য বাবার কবরে ছেলের এমন আচরণ সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।”