বিয়ের পিঁড়িতে বসা কনে আর বাসরঘরের কনে এক নন—অতিরিক্ত মেকআপ ধোয়ার পর কনে ‘বদলে গেছে’ বলে অভিযোগ তুলেছেন এক বর। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ও সিনেমার গল্পকেও হার মানানো ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে আদালতে। এই অভিযোগের জেরে গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বর রায়হান কবিরের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
অভিযোগকারী বর রায়হান কবির পীরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে। তার পরিবারের দাবি, ঘটকের মাধ্যমে রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডারা গ্রামের জিয়ারুল হকের মেয়ের সঙ্গে বিয়ের কথা হয়। গত বছরের (২০২৫) ১ আগস্ট ধুমধাম করে বিয়ে হয়।
রায়হানের মামা বাদল অভিযোগ করেন, বিয়ের আগে জুলাই মাসে ঘটক মোতালেব একটি চায়ের দোকানে পাত্রীকে দেখিয়েছিলেন। সেই মেয়েকে পছন্দ করেই বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বাসর রাতে নববধূ মুখ ধোয়ার পর রায়হান আবিষ্কার করেন, এটি সেই মেয়ে নয় যাকে তিনি পছন্দ করেছিলেন। অতিরিক্ত মেকআপের আড়ালে কনে বদল করে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন ২ আগস্ট কনেকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।
গত বছরের ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বাদী হয়ে বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।
পাল্টা হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর বর রায়হান কবির বাদী হয়ে কনের বাবা ও ঘটককে আসামি করে প্রতারণার মামলা করেন।
বরের মামা বলেন, “মেকআপের কারণে বিয়ের আসরে কিছু বোঝা যায়নি। বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পরই আসল সত্য বেরিয়ে আসে। ঘটক ও মেয়ের বাবা পরিকল্পিতভাবে মেয়ে বদল করেছে।”
কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বরযাত্রী হিসেবে ৭০ জন এসেছিল, তখন কেউ কিছু বলল না। এখন যৌতুকের জন্য নাটক সাজানো হচ্ছে। বিয়ের পরদিনই তারা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল। জমি বিক্রি করে দিতে চাইলেও তারা সময় দেয়নি, উল্টো মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়েছে।”ঘটক মোতালেবও কনে বদলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বরপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানান, বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল, তাই এতদিন বর জামিনে ছিলেন। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় গতকাল (১৯ জানুয়ারি) আদালত রায়হান কবিরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি এখন বিচারাধীন, আদালতের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।