বরফের রাজ্য অ্যান্টার্কটিকা। নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শুধুই দিগন্তজোড়া সাদা বরফের চাদর। কিন্তু এই বরফের নিচেই যে একসময় প্রাণের স্পন্দন ছিল, বয়ে যেত নদী, ছিল ঘন জঙ্গল—তা এবার প্রমাণ করলেন বিজ্ঞানীরা। অ্যান্টার্কটিকার বরফের প্রায় ৪ হাজার ফুট গভীরে হাজার হাজার বছর আগের নদীখাত ও গভীর জঙ্গলের সন্ধান মিলেছে।
যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) এবং রাডার থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার করেছেন।
গবেষকদের দাবি, প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ বছর আগে অ্যান্টার্কটিকার ওই নির্দিষ্ট অংশে নদী প্রবাহিত হতো এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছিল ঘন বনাঞ্চল। কিন্তু মহাদেশীয় সঞ্চারণ বা গন্ডোয়ানা ল্যান্ডের ভাঙনের পর বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে এবং এই অঞ্চল ক্রমশ বরফের চাদরে ঢাকা পড়তে শুরু করে।
বিজ্ঞানীরা জানান, প্রায় ২ কোটি বছর আগে থেকে সেখানে স্থায়ীভাবে হিমবাহের বরফ জমতে শুরু করে। যার ফলে নদী ও জঙ্গলের ওপর বরফের স্তর প্রতিনিয়ত পুরু হতে থাকে। বর্তমানে বরফের আস্তরণের প্রায় ৩ হাজার ৯০০ ফুট (প্রায় ৪ হাজার ফুট) নিচে সেই প্রাচীন নদী ও জঙ্গলের অবশিষ্টাংশ অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, বরফের স্তর অত্যন্ত স্থিতিশীল থাকার কারণে লাখ লাখ বছর ধরে মাটির নিচের এই ল্যান্ডস্কেপটি অনেকটা ‘টাইম ক্যাপসুল’-এর মতো সংরক্ষিত হয়ে আছে। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণেই বরফের এত গভীরের এই চিত্র উঠে এসেছে।
এই আবিষ্কার অ্যান্টার্কটিকার অতীত পরিবেশ এবং পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ভবিষ্যতে এই বরফ গলে গেলে পৃথিবী কেমন হতে পারে, তা বুঝতেও এই গবেষণা সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।