সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে চার দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় ‘ভ্রাম্যমাণ অধ্যাদেশ মঞ্চ’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের এই ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ সাতটি কলেজের ক্যাম্পাসে পর্যায়ক্রমে ভ্রমণ করবে। পাশাপাশি প্রতিটি ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হবে আরও পাঁচটি ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’। এসব মঞ্চ থেকে দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে এবং প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিকতা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
কর্মসূচির শেষ দিন, অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় সব ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে সমবেত হবেন। শিক্ষার্থীদের ঘোষণা অনুযায়ী—
ওই দিন অনুষ্ঠেয় উপদেষ্টা পরিষদের সভায় যদি অধ্যাদেশ অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশ করা হয়, তবে সেখান থেকে বিজয় মিছিল বের করা হবে।
আর যদি গেজেট প্রকাশে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তবে ওই গণজমায়েত থেকেই যমুনা (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) অথবা সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
যেহেতু অধ্যাদেশটি বর্তমানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, তাই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ নভেম্বর রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি প্রত্যাহার করে সরকার সেগুলোকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এখন শিক্ষার্থীরা সেই সিদ্ধান্তের দ্রুত আইনি বাস্তবায়ন চাইছেন।