Footbal

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো : আর্ত মানবতার সেবায় নিবেদিত প্রাণ

আনোয়ারুল হক আনোয়ার : ফুটবল মাঠের বাইরে বিশ্বসেরা ফুটবলার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে বলা ”মানবতার বন্ধু” । সর্বাধিক ১৩টি ফিফা এওয়ার্ড অর্জনকারী রোনালদো কোটি কোটি ফুটবল প্রেমীর প্রিয় ব্যক্তিত্ব । জন্ম ৪/২/১৯৮৫ ইং । তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচিত । ২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে ১৩১.৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে মানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাব থেকে নিয়ে আসে । বিশ্বের সবচে দামী খেলোয়াড়, ইতিহাসে সর্বোচ্চবার ধনী ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত হন ২০০৯-২০১৬ ইং পর্য্যন্ত । প্রথম ও একমাত্র খোলোয়াড় হিসেবে রোনালদো ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাট্রিক করেন । প্রথম ও একমাত্র খোলোয়াড় হিসেবে টানা ৫ মৌসুম ৫০ এর অধিক গোল করেন । ইউয়েফা ইউরোতে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা । ইউরোপে সর্বকালের সর্বোচ্চ ফ্রি কিক গোল স্কোরার ৫৯ গোল । একমাত্র ভিন্ন হিসেবে ২টি ভিন্ন লীগ ( ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ ও স্প্যানিশ লা লীগা) খেলে ইবনি সু পুরস্কার অর্জন করেন । সর্বাধিক ইউরোপীয়ান ৪টি গোল্ডেন সু অর্জন করেন । এছাড়া আরো অনেক রেকর্ডের অধিকারী ক্রিশ্চিয়ানা রোনালদো ।

মানবতার বন্ধু ত্রিশ্চিয়ানো রোনালদো : গ্রেট ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ব্যক্তিগত জীবনে একজন দানশীল এবং বিশ্বব্যাপী অসহায় মুসলমানদের সহযোগীতার জন্য প্রশংসিত হন । সম্প্রতি এক জরীপে রোনালদোকে বিশ্বের সবচে দানশীল খোলোয়াড় হিসেবে ঘোষনা করা হয় । ফিলিস্তিনের একটি সংস্থা রোনালদোকে “পার্সন অব দি ইয়ার – ২০১৬” প্রদান করে । ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ২০১১ সালে জয় করা গোল্ডেন বুট ফিলিস্তিনের দরিদ্র শিশুদের জন্য নিলামে বিক্রি করেন । রোনালদো’র আর্থিক সহায়তায় সিরীয় গৃহযুদ্ধে শরনার্থীদের জন্য এযাবত ৫হাজার ঘর নির্মিত হয় । তিনি ইসরাইলী ফুটবলাদের সাথে করমর্দন ও জার্সি বদল করেননি । এর কারন হিসেবে তিনি অত্যাচারীদের অপছন্দ করেন বলে জানান । রোনালদো বিশ্বের অসংখ্য ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করেন । দু’টি বিশ্বকাপ বাছাই খেলার পর রোনালদো ইন্দোনেশিয়া সফরে যান । তিনি সেখানকার সুনামি দূর্গত এলাকা পরিদর্শন এবং অর্থ সংগ্রহে অংশ নেন । তার নিজস্ব খেলা সামগ্রী বিক্রি করে ৬৬ হাজার পাউন্ড দূর্গতদের জন্য দান করেন । ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো অনেক দাতব্য সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত । ২০০৫ সালের জুনে সুনামি থেকে বেঁচে যাওয়া ইন্দোনেশিয়ার ১১ বছরের মার্তুনিস ও তার পিতাকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলা দেখার সূযোগ করে দেন । যার সম্পূর্ণ খরচ রোনালদো বহন করেন । পরে সকল খেলোয়াড়দের উদ্যোগে তার জন্য একটি বাড়ী ক্রয় করেন । নেপালে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ শিশুদের জন্য তিনি “সেভ দি চিলড্রেন” এর মাধ্যমে অনূদান প্রদান করেন ।

বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর বন্ধু হিসেবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো’র নাম প্রথম কাতারে । বিশ্বের বিভিন্ন স্পোর্টস ম্যাগাজিনসহ পত্র পত্রিকার তথানুযায়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো প্রতি বছর মানবতার সেবায় কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে থাকে । ২০১৬ সালে রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপা জয়ের পর বোনাস হিসেবে প্রাপ্ত ৬লাখ ইউরো পূরোটাই একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেন । এর আগে এক কিশোরের ব্রেইন সার্জারির জন্য ৮লাখ ৩হাজার ডলার দান করেন । জার্মানীর ডর্টমুন্ডের কোমা থেকে উঠে আসা এক অসুস্থ শিশুর ফুটবলীয় স্বপ্ন পূরণ করতে তাকে ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে গ্যালারীতে বসে খেলা দেখার ব্যবস্থা করে দেন রোনালদো । মানবতার সেবায় প্রতিনিয়ত এগিয়ে আসায় ২০১৫ সালে বিশ্বের সেরা চ্যারিটেবল স্পোর্টসম্যান হিসেবে রোনালদোর নাম ঘোষনা করা হয় ।

লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *